গত পাঁচ বছরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিদেশ সফর নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। বাংলাদেশ বিমান থেকে ভাড়া করা ভিভিআইপি ফ্লাইটে তার ৩৫টি সফরেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৪৮টি ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে, যার বেশিরভাগই ছিল শেখ হাসিনার জন্য।

এত বিশাল অংকের ব্যয় সত্ত্বেও, তার সফরগুলোতে খরচ কমিয়ে আনার কোনো নজির পাওয়া যায়নি। শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্য, ভারত, মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে একাধিকবার সফর করেছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছিল ২০২৩ সালের মধ্যপ্রাচ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সফর। যেখানে ব্যয় হয় প্রায় ২৩ কোটি টাকা।

হাসিনার এমন কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে বিমান বাংলাদেশের সাবেক কর্মকর্তারা জানান, শেখ হাসিনার সফরগুলোতে আরও সাশ্রয়ী উপায়ে বিমান ভাড়া করা সম্ভব ছিল। এমনকি বিমানের পক্ষ থেকে সরকারকে ছোট আকারের বিমান কেনার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল, যা বিশেষ ফ্লাইটের জন্য ব্যবহৃত হতে পারত।

অন্যদিকে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের বিদেশ সফরেও রাষ্ট্রীয় অর্থের প্রচুর অপচয় হয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই দুই রাষ্ট্রপতির সফরে ব্যয় প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

শেখ হাসিনার এই ব্যয়ের বিপরীতে, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের সময় নিয়মিত ফ্লাইট ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সফর করেছেন।

সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে এই ধরনের বিলাসী সফর নিয়ে সমালোচনা তুঙ্গে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার জানিয়েছেন, বাংলাদেশে উন্নয়নের নামে লুটপাট এবং দুর্নীতির ধারাবাহিকতায় এই ধরনের বিদেশ সফর অপ্রয়োজনীয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *