মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এবং আসন্ন নির্বাচনের রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রস্তাব দিয়েছেন। উত্তর ক্যারোলিনায় এক জনসভায় বক্তব্য প্রদানকালে ট্রাম্প ইসরায়েলকে উদ্দ্যেশ্য করে বলেন, ইসরায়েলের উচিত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় প্রথমে আক্রমণ চালানো, এরপর অন্য বিষয়গুলো নিয়ে ভাবা।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় আসল যখন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে   ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে কিনা জানতে চাওয়া হলে, বাইডেন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট করেন এবং বলেন ‘আমার সমর্থন এই ধরনের হামলার পক্ষে নয়।’ অবশ্য বাইডেন ইসরায়েলিদের ওপর আক্রমণের প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার রয়েছে বলেও জানান। কিন্তু সেই প্রতিক্রিয়া হতে হবে ‘প্রতিপক্ষের হামলার সমানুপাতিক হার অনুযায়ী’।

উল্লেখ্য, বাইডেনের এমন মন্তব্য ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রকাশ পেল । গত সপ্তাহে ইরান প্রায় ২০০টি রকেট ইসরায়েলের দিকে নিক্ষেপ করে, যা ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি স্থানে আঘাত হানে। তেহরান জানায় এই আক্রমণ ইসরায়েল কর্তৃক হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ এবং হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়ার হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে করা হয়েছে।

ট্রাম্পের সমালোচনা

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনায় এতদিন চুপ ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সপ্তাহের শুরুতে একটি কড়া বিবৃতি দিয়ে তিনি বাইডেন এবং তার ডেপুটি কমলা হ্যারিসকে এই সংঘাত এবং উত্তেজনার জন্য সরাসরি দায়ী করেন। ট্রাম্পের মতে, বর্তমান প্রশাসনের দুর্বল কূটনৈতিক নীতির কারণে এই ধরনের অস্থিরতা বাড়ছে, এবং ইসরায়েলের উচিত তাদের প্রতিরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।

মোটকথা মার্কিন নির্বাচনে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। যেখানে ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যকার মতপার্থক্য স্পষ্ট—একদিকে ট্রাম্প শক্তিশালী পদক্ষেপের পক্ষে। অন্যদিকে বাইডেন একটি পরিমিত এবং কূটনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে চান। সঙ্গতকারণেই তাই মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট কীভাবে সমাধান হবে, তা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *