ইবরাহীম আকিল যিনি ‘তাহসিন’ নামেও পরিচিত, হিজবুল্লাহর একজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নেতা ছিলেন। গতকাল ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। তার সামরিক ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তার সন্ত্রাসী তকমা পাওয়ার ঘটনাগুলো তাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

ইবরাহীম আকীল ছিলেন হিজবুল্লাহর দ্বিতীয় শীর্ষ সামরিক নেতা। তিনি গত ৩০ জুলাই ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়া ফুয়াদ শাকারের পর এ পদে আসেন। আকিল হিজবুল্লাহর স্পেশাল ফোর্স ‘রিদওয়ান’ এর নেতৃত্বে ছিলেন এবং সংগঠনের সর্বোচ্চ সামরিক কমিটি ‘জিহাদ কাউন্সিল’ এর সদস্যও ছিলেন। তার নেতৃত্বযোগ্যতা এবং সামরিক দক্ষতা হিজবুল্লাহর মধ্যে তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

আকিল কেবল হিজবুল্লাহতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তিনি ১৯৮৩ সালে বৈরুতে মার্কিন দূতাবাসে বোমা হামলা চালানো ইসলামিক জিহাদ সংগঠনের সদস্যও ছিলেন। এই হামলার সাথে জড়িত থাকার কারণে তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নজরে আসেন।

আকিলের কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে ২০১৫ সালে মার্কিন ট্রেজারি ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে ঘোষণা করে। পরে ২০১৯ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। ২০২৩ সালে আকিল সম্পর্কে তথ্যের জন্য ৭ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে দক্ষিণ বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় ইবরাহীম আকীল নিহত হন। হিজবুল্লাহ তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। তার মৃত্যু হিজবুল্লাহর জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইবরাহীম আকীলের সামরিক জীবন এবং তার মৃত্যু হিজবুল্লাহর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার নেতৃত্বের কারণে সংগঠনটি সামরিকভাবে শক্তিশালী হলেও তার কর্মকাণ্ড তাকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তার মৃত্যু হিজবুল্লাহর সামরিক কাঠামোতে একটি শূন্যতা তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে সংগঠনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আনাদোলু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *