মিয়ানমারে ঘূর্ণিঝড় ইয়াগির প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে দুর্দশার মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৭৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৮৯ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই বন্যায় মিয়ানমার ছাড়াও ভিয়েতনাম, লাওস, থাইল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, এই অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ইয়াগি ও তার প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে কমপক্ষে ৩৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার জানায়, এই দুর্যোগে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৫ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর ও পাঁচটি বাঁধ। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মিয়ানমারে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রায় ২৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে ঝড়-বন্যা-ভূমিধস মিয়ানমারের জনগণের কষ্ট বহুগুণে বাড়িয়ে তুলেছে।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো বিদেশি সহায়তা চেয়েছে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান। যদিও জান্তা সরকারের পূর্বের অবস্থান অনুযায়ী বিদেশি সহায়তার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি ছিল, বিশেষত গত বছরের ঘূর্ণিঝড় মোচায় পশ্চিমাঞ্চলে আঘাতের পর মানবিক সহায়তার কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

অতীতের চেয়ে ভিন্ন পরিস্থিতিতে এবার বিদেশি সহায়তা চাওয়াকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কারণ, মিয়ানমারের জনগণের দুর্দশা ক্রমশ বেড়ে চলেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *