নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকতার সাথে সিরিয়ার নতুন পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসআদ আশ-শাইবানী। সিরিয়ার নতুন পতাকা উত্তোলনকে তিনি ‘সিরিয়ার জনগণের বিজয়ের প্রতীক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

পতাকা উত্তোলনের পর দেওয়া বক্তব্যে শাইবানী বলেন, ‘নতুন সিরিয়ার পতাকা আমাদের জনগণের বিজয়কে নতুন মর্যাদা দিয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিরিয়ার ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করবে।’

তিনি জানান, সিরিয়ার জাতিসংঘের সদস্যপদ হারানোর পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দেশটির জনগণের চাহিদা ও প্রত্যাশার প্রতি মনোযোগী হওয়া। তার ভাষায়, সিরিয়া এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি উন্মুক্ত। আমরা চাই, আমাদের সঙ্গেও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে আচরণ করা হোক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিশ্বের কাছে সিরিয়ার এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা। যেহেতু নিষেধাজ্ঞার কারণ এখন আর বিদ্যমান নেই, তাই এসব আর টিকে থাকা উচিত নয়। এগুলো যেন সাধারণ মানুষের জীবনকে আর ক্ষতিগ্রস্ত না করে।’

দেশটির পুনর্গঠনের আশা প্রকাশ করে শাইবানী বলেন, ‘সিরিয়ার ভেতরে ও বাইরে থাকা মানুষজন নতুন করে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে। তাদের সেই স্বপ্নকে মূল্যায়ন করা উচিত।’

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে শাইবানী জানান, নিষেধাজ্ঞাগুলোর বোঝা এখনো সিরিয়ার কাঁধে রয়ে গেছে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা। তিনি বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞার সুযোগ নিচ্ছে কিছু গোপন সংগঠন, যারা চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত।’

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পক্ষে মত দিয়েছেন জাতিসংঘের সিরিয়া বিষয়ক দূত গেইর পেডারসেনও। তিনি বলেন, ‘সিরিয়ার অর্থনীতি সচল করতে, আঞ্চলিক সহায়তা নিশ্চিত করতে এবং দেশ পুনর্গঠনে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার প্রয়োজন।’

এ সময় তিনি ইসরায়েলকে সিরিয়ার ভূমিতে অব্যাহত আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানান। তার মতে, এসব আগ্রাসন দেশটির রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *