ভারী বর্ষণ, বজ্রপাত ও ঝড়ের তাণ্ডবে ভারত ও নেপালে গত তিন দিনে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০০ জন। প্রবল বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা, ঝড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের পাশাপাশি গাছ উপড়ে যাওয়া ও ভবনের ছাদ-দেয়াল ধসেও এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহার। রাজ্য সরকারের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিহারে শুধুমাত্র গত তিন দিনেই বজ্রপাত ও ভারী বর্ষণের কারণে অন্তত ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই কৃষক ও খোলা জায়গায় কাজ করছিলেন।

এছাড়া বিহার রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছ ও ভেঙে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু এলাকায়। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

পাশের দেশ নেপালেও ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টির কারণে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

এছাড়া প্রবল বর্ষণে নেপালের বহু সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দেশটির সেনাবাহিনী ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া লোকজনকে উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে কাজ চলছে।

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই এই অতিবৃষ্টি ও বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে। আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা। ভারী বর্ষণের আশঙ্কায় ভারত ও নেপালের বেশ কিছু অঞ্চলে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতি বছর মৌসুমি বৃষ্টিপাতের সময় ভারী বর্ষণ ও এর ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের দুর্যোগের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *